সানী-মৌসুমীর ব্যক্তিগত বিষয় ঘরে রাখাই ভালো ছিল: অঞ্জনা

তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর সম্পর্ক কয়েক মাস ধরেই ভালো যাচ্ছে না। সম্পর্কের তিক্ততা কতটা তা জানা গেলো মৌসুমীর বক্তব্যে। শুক্রবার (১০ জুন) রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় একটি হেয়ার অয়েলের শোরুম উদ্বোধনে উপস্থিত হয়েছিলেন মৌসুমী ও ওমর সানী। কিন্তু মুখোমুখি হননি। কথাও বলেননি।ওমর সানীর উপস্থিতি টের পেয়েই সেখান থেকে কেটে পড়েন মৌসুমী। পরে গিয়ে আলাদাভাবে কেক কাটেন সানী। খানিক পর তিনিও চলে যান। সেই রাতেই রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে ডিপজলপুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওমর সানী ও জায়েদ খানের কথা কাটাকাটি হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে ভালোই জলঘোলা করেন ওমর সানী। গণমাধ্যমের পাশাপাশি গতকাল রাতেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে সংসার ভাঙার কারণ হিসেবে জায়েদকে অভিযুক্ত করেন তিনি।

তবে সোমবার (১৩ জুন) মৌসুমীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেলো দাম্পত্য কলহের বিষয়টি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জায়েদ খান তাকে কখনোই অসম্মান করেননি। বরং ওমর সানীই মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বক্তব্যে স্বামীকে (ওমর সানী) ভাই বলেও সম্বোধন করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা অঞ্জনা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি চ্যানেল 24 অনলাইনকে বলেন, মৌসুমীর বক্তব্যে পুরো ঘটনা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। মৌসুমী, ওমর সানী ও জায়েদ খান ওরা সবাই আমার খুব স্নেহের। সংসার জীবনে মনোমালিন্য হতেই পারে। তাই বলে একজনকে দোষারোপ করতে হবে; তাও এভাবে। সানী-মৌসুমীর ব্যক্তিগত বিষয় ঘরে রাখাই ভালো ছিল। অঞ্জনা আরও বলেন, আমি যতদূর জানি একসঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে সানী, মৌসুমী ও জায়েদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মৌসুমীকে বড় বোনের মতোই সম্মান করে জায়েদ। সেখানে সংসার ভাঙার কারণ হিসেবে জায়েদের নাম কেন আসবে। খুব বেশিদিন হয়নি জায়েদ মা-বাবা হারিয়েছে। ও শিক্ষিত ছেলে, পারিবারিক অবস্থাও ভালো। ওর বিয়ের প্রয়োজন হলে বড় ভাই ও বোন রয়েছে, তারাই বিষয়টি দেখবে। যাকে বোন বলে ডাকে জায়েদ তার সঙ্গে কেন সম্পর্কে জড়াবে? হয়তো সানী-মৌসুমীর কোনো সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে সানীর কাছে খারাপ হয়ে গেছে জায়েদ। এমনটি হতে পারে। জন্ম, মৃত্যু বিয়ে ৩ সত্যি নিয়ে। আল্লাহ না চাইলে তো কারও সংসার টিকবে না। কাউকেই দোষ দিয়ে লাভ নেই।

বিয়ের অনুষ্ঠানে সানী-জায়েদের কথা কাটাকাটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খ্যাতিমান এই নায়িকা বলেন, ওইদিন আমাদের চোখের সামনে তেমন কিছুই ঘটেনি। আমি রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠানে যাই। তারপর রোজিনাসহ অন্যান্যরা আসে। এক টেবিলে আমরা ২০-২৫ জন ছিলাম। সবাই মোবাইল ফোনে আমাদের ভিডিও করছিল। সেখানে একজন চড় মারবে, আরেকজন পিস্তল বের করবে এমন হওয়ার কোনো সুযোগ কী ছিল? এছাড়া আমি, রোজিনা, ডিপজল ভাই চুপ করে এমন ঘটনা ঘটলে বসে বসে দেখতাম? হ্যাঁ, আমি যতটুকু দেখেছি, জায়েদ ওই রাতে সানীকে বার বার ডাকছিল। ডিপজল ভাইও খাওয়ার জন্য ডাকছিলেন। ওমর সানী খানিক দূর গিয়ে সবার দিকে একবার লুক দিয়ে হনহন করে চলে গেলো। ওই রাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। তবে আমি চলমান এই বিষয়গুলো নিয়ে খুব কষ্ট পেয়েছি। একই পরিবারের মানুষের মধ্যে কেন এতো হিংসা, বিদ্বেষ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.